মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুপ্রতিম দেশ ইরাকের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নিবিড় ও বেগবান করতে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরাকের ঐতিহাসিক রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন বা ‘কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স’ (সিএফএম)-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ফাঁকে (সাইডলাইন) আয়োজিত বিশেষ দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকসমূহ স্বাক্ষরিত হয়।
উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইরাক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে দেশটির সম্মানিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হোসেন নিজ নিজ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকে স্ব-স্ব স্বাক্ষর প্রদান করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নয়া স্বাক্ষরিত দুই সমঝোতা স্মারকের অধীনে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি বা অফিসিয়াল পাসপোর্টধারী নাগরিকদের জন্য তাৎক্ষণিক ভিসা অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিতভাবে উচ্চপর্যায়ের ‘রাজনৈতিক পরামর্শ’ (পলিটিক্যাল কনসালটেশন) বা পর্যালোচনা বৈঠক আয়োজনের জন্য একটি স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পর্ব শেষে উভয় দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সাথে তারা বাংলাদেশ ও ইরাকের ঐতিহ্যবাহী ও বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করার দৃঢ় রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন এই যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারকসমূহ ঢাকা ও বাগদাদের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণসহ নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশেষ এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. মাকসুদুল হকসহ উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






















