সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের সর্বোচ্চ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানী ঢাকার কাজী আলাউদ্দীন রোডে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সার্বিক পূজামণ্ডপগুলোতে অগ্নিকাঙ্ক্ষাসহ যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক গৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান, “প্রতি বছরের মতো এবারও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে বিশেষ ও ব্যাপকভিত্তিক অগ্নিনিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”
গৃহীত এসব বিশেষ কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, উৎসব চলাকালীন দেশের সকল ফায়ার স্টেশন সম্পূর্ণ ‘স্ট্যান্ডবাই’ বা সতর্ক ডিউটিতে নিয়োজিত থাকবে। বর্তমানে সারা দেশে কার্যকর থাকা ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন স্ব স্ব ভৌগোলিক এলাকার সকল পূজামণ্ডপের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখবে। মণ্ডপসমূহ পরিদর্শনকালে ফায়ার কর্মীরা সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নিরসনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সাহায্য চাইতে নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের নিজস্ব টেলিফোন নম্বর ও জাতীয় জরুরি হটলাইন ‘১০২’ নম্বরটি বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।
মহাপরিচালক আরও জানান, বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সাময়িকভাবে নিয়োজিত ফায়ার স্টেশনগুলোও এই সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। ফায়ার স্টেশনগুলোর পাশাপাশি অধিদপ্তরের সকল বিভাগীয়, জেলা ও জোন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও সার্বক্ষণিক স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে থাকবেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও মণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবেন।
জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় ডিউটি পালন করবে। কোথাও থেকে জরুরি সাহায্য চেয়ে ফোন পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের নিকটতম এক বা একাধিক ফায়ার স্টেশনকে দ্রুত রেসপন্স করার নির্দেশ দেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিসের সকল বিভাগীয় ও জেলা অফিস এবং মাঠপর্যায়ের স্টেশনগুলো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সুসমন্বয় বজায় রেখে তাদের নির্দেশনা মোতাবেক দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত রাখার পাশাপাশি রোড রেসকিউ সরঞ্জাম, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স এবং রাত্রিকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শক্তিশালী লাইটিং ইউনিট বা আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধিদপ্তরসহ সকল বিভাগীয় ও জেলা সদরের কার্যালয়গুলোতে বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলে অধীনস্থ ফায়ার স্টেশনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হবে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।






















