Dhaka ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

দুই বিমানবন্দরে সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

দেশের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিনে পর্যায়ক্রমে চারটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এই বিশেষ চিরুনি অভিযানে সর্বমোট প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ সোনার বার, বিদেশি মদ, ঝুঁকিপূর্ণ ডার্মাল ফিলার, আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) টানা পরিচালিত এসব সফল অভিযানে ১১৭ গ্রাম ওজনের সোনার বার, ৩০ লিটার বিদেশি মদ, ১৫৫টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্ষতিকর গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি পুরনো ব্যবহৃত ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জব্দ করা এই সমস্ত চোরাচালানি পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাধারণ জনগণের জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকারের সঠিক সংরক্ষণ, সব ধরনের অবৈধ পন্থায় পণ্য আমদানি কঠোরভাবে প্রতিরোধ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দিতে কাস্টমস গোয়েন্দাদের এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিমানবন্দর কেন্দ্রিত সোনা আটক

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালের দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-১৪৮’ ফ্লাইটের এক বিমানযাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁকে গ্রিন চ্যানেলে এনে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

অভিযুক্ত যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে মাত্র ১০০ গ্রাম সোনা বহন করার মিথ্যা ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছে সোনা থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তাঁর দেহ পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করে ১১২ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান সোনার বার উদ্ধার করা হয়। সরকারি সব শুল্ক-কর ও জরিমানা হিসাব করে আটককৃত ওই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

ঢাকায় বিদেশি মদ উদ্ধার অভিযান

একই দিনে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিন্ন এক অভিযানে ৩০ লিটার বিদেশি মদ আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই-২১৮৩’ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানো এক যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৬ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এর বাইরেও বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহারের শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাড়ে ৭ লিটার এবং অন্য আরও দুই যাত্রীর কাছ থেকে আরও সাড়ে ৬ লিটার মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মদগুলোর সামগ্রিক আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

কলম্বোর ফ্লাইটে কসমেটিকস ও ইনজেকশন জব্দ

অপরদিকে, গত ১৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ‘ইউএল-১৮৯’ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করে প্রায় ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ১৫৫টি উচ্চমূল্যের ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে সন্দেহজনক একটি লাগেজ কড়াভাবে স্ক্যান ও পরীক্ষা করে এই ইনজেকশনগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত যাত্রী মো হ. রাকিব হোসেনের ওই ব্যাগেজে মূলত চার ভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব ইনজেকশন সংরক্ষিত ছিল।

কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দ করা এসব ইনজেকশন পণ্যের মধ্যে রয়েছে— রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫ পিস, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪ পিস, জুভেডার্ম ভলিউমা উইথ লিডোকেইন ৪০ পিস এবং প্রোফাইলো ব্র্যান্ডের ৬ পিস ইনজেকশন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মুখের ত্বকের বলিরেখা বা রিংকেল কমানো, লাবণ্য বৃদ্ধি করা এবং ত্বকের টানটান ভাব বা স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের রাসায়নিক পণ্য চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে রেজিস্টার্ড ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সঠিক প্রেসক্রিপশন ছাড়া এসব পণ্য শরীরে ব্যবহার করলে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ, রক্তনালিতে ব্লকেজ বা বাধা সৃষ্টি, ত্বকের চিরস্থায়ী ক্ষতি এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের অন্ধত্ব বা দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারানোর মতো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে এসব আটক করা চিকিৎসা সামগ্রীর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আমদানির বৈধ কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

পোস্ট অফিসে নিষিদ্ধ ক্রিম ও ল্যাপটপ আটক

এদিকে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার এয়ারপোর্ট ফরেন পোস্ট অফিসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০৪ কেজি সম্পূর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি ব্যবহৃত কোর আই-৫ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এই বড় চালানের জব্দকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, এই ধরনের অননুমোদিত এবং মানহীন স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিমে নানাবিধ ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ফর্সাকারী অনেক প্রসাধনীতে পারদ (Mercury), অননুমোদিত স্টেরয়েডসহ নানা বিধিবদ্ধ ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা ব্যবহারের ফলে মানুষের ত্বক, কিডনি এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তবে কাস্টমসের হাতে আটক হওয়া এই গৌরি ক্রিমে প্রকৃতপক্ষে ওই ধরণের ক্ষতিকর উপাদানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, দেশে কোনো ধরণের বৈধ অনুমতি বা মান নিয়ন্ত্রণ সনদ ছাড়াই আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ দেশের সাধারণ প্রযুক্তিপণ্যের বাজার এবং ভোক্তাদের পণ্যের গুণগত মান, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। সরকারি যথাযথ মান যাচাই ও শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই এই পণ্যগুলো বাজারজাত করা হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে চরম প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ভোক্তা অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা, বৈধ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং যেকোনো মূল্যে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অবৈধ প্রবণতা রোধে দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দুই বিমানবন্দরে সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিনে পর্যায়ক্রমে চারটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এই বিশেষ চিরুনি অভিযানে সর্বমোট প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ সোনার বার, বিদেশি মদ, ঝুঁকিপূর্ণ ডার্মাল ফিলার, আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম এবং ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) টানা পরিচালিত এসব সফল অভিযানে ১১৭ গ্রাম ওজনের সোনার বার, ৩০ লিটার বিদেশি মদ, ১৫৫টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্ষতিকর গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি পুরনো ব্যবহৃত ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জব্দ করা এই সমস্ত চোরাচালানি পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাধারণ জনগণের জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকারের সঠিক সংরক্ষণ, সব ধরনের অবৈধ পন্থায় পণ্য আমদানি কঠোরভাবে প্রতিরোধ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দিতে কাস্টমস গোয়েন্দাদের এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিমানবন্দর কেন্দ্রিত সোনা আটক

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালের দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-১৪৮’ ফ্লাইটের এক বিমানযাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁকে গ্রিন চ্যানেলে এনে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

অভিযুক্ত যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে মাত্র ১০০ গ্রাম সোনা বহন করার মিথ্যা ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছে সোনা থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তাঁর দেহ পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করে ১১২ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান সোনার বার উদ্ধার করা হয়। সরকারি সব শুল্ক-কর ও জরিমানা হিসাব করে আটককৃত ওই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

ঢাকায় বিদেশি মদ উদ্ধার অভিযান

একই দিনে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিন্ন এক অভিযানে ৩০ লিটার বিদেশি মদ আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই-২১৮৩’ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানো এক যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১৬ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এর বাইরেও বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের ব্যবহারের শৌচাগার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাড়ে ৭ লিটার এবং অন্য আরও দুই যাত্রীর কাছ থেকে আরও সাড়ে ৬ লিটার মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মদগুলোর সামগ্রিক আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

কলম্বোর ফ্লাইটে কসমেটিকস ও ইনজেকশন জব্দ

অপরদিকে, গত ১৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ‘ইউএল-১৮৯’ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ স্ক্যান করে প্রায় ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ১৫৫টি উচ্চমূল্যের ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে সন্দেহজনক একটি লাগেজ কড়াভাবে স্ক্যান ও পরীক্ষা করে এই ইনজেকশনগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত যাত্রী মো হ. রাকিব হোসেনের ওই ব্যাগেজে মূলত চার ভিন্ন ব্র্যান্ডের এসব ইনজেকশন সংরক্ষিত ছিল।

কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দ করা এসব ইনজেকশন পণ্যের মধ্যে রয়েছে— রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫ পিস, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪ পিস, জুভেডার্ম ভলিউমা উইথ লিডোকেইন ৪০ পিস এবং প্রোফাইলো ব্র্যান্ডের ৬ পিস ইনজেকশন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মুখের ত্বকের বলিরেখা বা রিংকেল কমানো, লাবণ্য বৃদ্ধি করা এবং ত্বকের টানটান ভাব বা স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের রাসায়নিক পণ্য চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তবে রেজিস্টার্ড ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সঠিক প্রেসক্রিপশন ছাড়া এসব পণ্য শরীরে ব্যবহার করলে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ, রক্তনালিতে ব্লকেজ বা বাধা সৃষ্টি, ত্বকের চিরস্থায়ী ক্ষতি এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের অন্ধত্ব বা দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারানোর মতো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে এসব আটক করা চিকিৎসা সামগ্রীর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আমদানির বৈধ কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

পোস্ট অফিসে নিষিদ্ধ ক্রিম ও ল্যাপটপ আটক

এদিকে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার এয়ারপোর্ট ফরেন পোস্ট অফিসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০৪ কেজি সম্পূর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি ব্যবহৃত কোর আই-৫ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এই বড় চালানের জব্দকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, এই ধরনের অননুমোদিত এবং মানহীন স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিমে নানাবিধ ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত থাকার প্রবল আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ফর্সাকারী অনেক প্রসাধনীতে পারদ (Mercury), অননুমোদিত স্টেরয়েডসহ নানা বিধিবদ্ধ ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা ব্যবহারের ফলে মানুষের ত্বক, কিডনি এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তবে কাস্টমসের হাতে আটক হওয়া এই গৌরি ক্রিমে প্রকৃতপক্ষে ওই ধরণের ক্ষতিকর উপাদানগুলোর উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, দেশে কোনো ধরণের বৈধ অনুমতি বা মান নিয়ন্ত্রণ সনদ ছাড়াই আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ দেশের সাধারণ প্রযুক্তিপণ্যের বাজার এবং ভোক্তাদের পণ্যের গুণগত মান, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। সরকারি যথাযথ মান যাচাই ও শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই এই পণ্যগুলো বাজারজাত করা হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে চরম প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ভোক্তা অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা, বৈধ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং যেকোনো মূল্যে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অবৈধ প্রবণতা রোধে দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।