সাধারণত ধূমপানকেই ফুসফুসের ক্যানসারের প্রধান কারণ ধরা হলেও, যারা কখনো ধূমপান করেননি তারাও এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন। বংশগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এবং বিরল কিছু জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়। সম্প্রতি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা জগতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো ‘অ্যাডেনোকার্সিনোমা’। গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক ইতিহাস ছাড়াও ডিজেল চালিত যানবাহনের ধোঁয়া, রেডন গ্যাস এবং ইজিএফআর টি৭৯০এম (EGFR T790M) নামের এক ধরনের বিরল জিনগত মিউটেশন থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিশেষ জিনগত পরিবর্তন যাদের শরীরে রয়েছে, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসার প্রায়ই দেরিতে শনাক্ত হয়, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসারের স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ৫০ বছরের বেশি বয়সি বা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


























