বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জলপথ হলো মিসরের সুয়েজ খাল। তবে কৃত্রিম খাল কেটে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করার এই চিন্তা হাজার বছরের পুরোনো। সপ্তম শতাব্দীতে খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনামলে মিসরে খনন করা হয়েছিল তেমনই এক ঐতিহাসিক জলপথ, যা ইতিহাসে ‘আমিরুল মুমিনিন খাল’ নামে পরিচিত।
হিজরি ১৮ সালের দিকে আরব উপদ্বীপে দেখা দেওয়া ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় মিসরের গভর্নর আমর ইবনুল আস (রা.)-এর উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা পাঠানো হয়। তবে স্থলপথে বিপুল খাদ্য পরিবহনের সময় ও কষ্ট কমাতে খলিফা ওমরের নির্দেশে নীলনদ থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত এই খাল খনন করা হয়। প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি দ্রুত সময়ে খনন করা হয়েছিল, যার ফলে কম খরচে ও সহজে হিজাজে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো সম্ভব হয়।
কালক্রমে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে লোহিত সাগরের সঙ্গে খালটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে এটি দীর্ঘকাল কায়রোর অভ্যন্তরীণ নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে ছিল। আধুনিক নগরায়ণের প্রভাবে একসময় এই ঐতিহাসিক খালটি ভরাট করে সড়কে রূপ দেওয়া হয়, যার ওপর দিয়ে আজ বয়ে চলে কায়রো শহরের আধুনিক যানবাহন।


























