Dhaka ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাউদ্যোগ সরকারের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০-এর আওতায় প্রণীত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও রূপরেখা: নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদ, শিল্পকারখানা, তৈরি পোশাক কারখানা, গুদাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে।
  • ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: জমি সংগ্রহ করে ভূমিভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। এজন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে।
  • অন্যান্য উৎস: বায়ু, বর্জ্য, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
  • সেচপাম্প রূপান্তর: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সম্পূর্ণ সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে।

প্রণোদনা ও আর্থিক সুবিধা: বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা ও আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করেছে:

  • জাতীয় গ্রিড: নেট মিটারিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা (৮ টাকা মূল খরচ, ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়ামসহ) দেওয়া হবে।
  • স্বল্পসুদে ঋণ: সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ১ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।
  • কর ও শুল্ক ছাড়: সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে কর ও শুল্ক পুরোপুরি অব্যাহতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দিবালোকের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সঞ্চয় বা সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট গ্রিড বা গ্রিড আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, অর্থ, পরিবেশ, ভূমি, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাউদ্যোগ সরকারের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০-এর আওতায় প্রণীত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও রূপরেখা: নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদ, শিল্পকারখানা, তৈরি পোশাক কারখানা, গুদাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন কমবে।
  • ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ: জমি সংগ্রহ করে ভূমিভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। এজন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে।
  • অন্যান্য উৎস: বায়ু, বর্জ্য, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
  • সেচপাম্প রূপান্তর: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সম্পূর্ণ সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে।

প্রণোদনা ও আর্থিক সুবিধা: বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা ও আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করেছে:

  • জাতীয় গ্রিড: নেট মিটারিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা (৮ টাকা মূল খরচ, ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়ামসহ) দেওয়া হবে।
  • স্বল্পসুদে ঋণ: সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ১ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।
  • কর ও শুল্ক ছাড়: সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে কর ও শুল্ক পুরোপুরি অব্যাহতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে দিবালোকের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সঞ্চয় বা সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট গ্রিড বা গ্রিড আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা দিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, অর্থ, পরিবেশ, ভূমি, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে।