শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর সর্বমোট ২৫৭টি পূজামণ্ডপে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মণ্ডপগুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে পরা বডি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে সার্বিক দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, ঢাকা মহানগরী এলাকায় এবার ২৫৭টি স্থানে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাঝুঁকি, আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম এবং সার্বিক পরিবেশ বিবেচনা করে মণ্ডপগুলোকে মোট চারটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপ চত্বরে ২৪ ঘণ্টা পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মণ্ডপগুলোতে নিজস্ব অর্থায়নে ও সরকারের সহায়তায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ডিএমপির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সাথে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে নিবিড়ভাবে পূজার পরিবেশ তদারকি করা হবে। একই সাথে প্রহরার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ক্যামেরার লাইভ ফিডের মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতির ওপর চোখ রাখা হবে।
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা বলয় নিছিদ্র রাখতে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ হাজার ১০০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যকে বিশেষ দায়িত্বে মোতায়েন করা হচ্ছে। মণ্ডপ এবং এর চারপাশের এলাকাগুলোতে দৃশ্যমান টহল জোরদার করার সাথে সাথে সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তি ও পরিত্যক্ত বস্তুর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত চরম জরুরি পরিস্থিতি বা নাশকতা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট (SWAT), বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, কে-নাইন ডগ স্কোয়াড এবং ক্রাইম সিন ইউনিটকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য বা আশঙ্কা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার স্পষ্টভাবে জানান, এখন পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো ধরনের নাশকতার আগাম গোয়েন্দা তথ্য নেই। তথাপি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ভীতি ছড়ানোর কোনো অপচেষ্টা কিংবা নাশকতার সামান্যতম চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ অতি ক্ষুদ্রতম ঝুঁকিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। দেশে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা কিংবা উৎসবের আনন্দময় পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য গুজব এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অপতথ্য ছড়ানোর ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপপ্রচার রোধে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ সাইবার মনিটরিং সেল দিনরাত কাজ করছে। কোনো ধরনের তথ্য বা সংবাদের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।
সবশেষে বিজয়া দশমীর দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। পুরো শোভাযাত্রার রুটজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যানবাহন ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।






















