সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন ঢাকা জেলা ও মহানগরীর সর্বমোট ১ হাজার ১২৬টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সুনিশ্চিত করতে মোট ৭ হাজার ৩২৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যকে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যেকোনো জরুরি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে মোট ছয়টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যগুলো জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয় যে, ঢাকা জেলার অধীনস্থ সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ এবং দোহার উপজেলা অঞ্চলের ৮৬৬টি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার ৫৩২ জন এবং ঢাকা মহানগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম জোনের আওতাভুক্ত ২৬০টি পূজামণ্ডপে ১ হাজার ৭৯৬ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরাপত্তার ঝুঁকি ও সংবেদনশীলতার মাত্রা বিবেচনা করে মণ্ডপগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ—এই মোট তিন ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করে সুনির্দিষ্ট নিয়মে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, শৃঙ্খলাপরায়ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপদ চলাচলের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে দুজন করে নারী আনসার-ভিডিপি সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সফলভাবে সামাল দিতে ছয়টি বিশেষ আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এই দলগুলো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে যৌথভাবে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিযুক্ত আনসার সদস্যদের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি, মাঠপর্যায়ের নানা তথ্য সংগ্রহ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে ঢাকা জেলা পর্যায়ে একটি প্রধান কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা ও থানা পর্যায়েও পৃথকভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বক্ষণে প্রতিটি ইউনিটের সদস্যদের জন্য বিশেষ ব্রিফিং প্যারেডের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্যারেডে তাদের ওপর অর্পিত মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য, সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত দর্শনার্থীদের সাথে বিনয়ী আচরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিয়োজিত দুজন আনসার-ভিডিপি সদস্যকে বিশেষভাবে উদ্ভাবিত ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সরবরাহের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা সিকিউরিটিজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠাবেন, যার ফলশ্রুতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে বাহিনীটি আশাবাদী।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত এই পূজামণ্ডপগুলোতে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এই পুরো সময়জুড়ে তারা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং স্ব স্ব পূজা উদ্যাপন কমিটির সাথে পূর্ণ সমন্বয় রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।
জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামান জানান, দুর্গাপূজার পবিত্র উৎসবের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি নারী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্ট্রাইকিং টিম গঠন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন এবং সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য আদান-প্রদানের আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সকল সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও নিখাদ দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






















