Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডকে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী পদক্ষেপ বলল আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

বৈশ্বিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকট ও মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সামলে প্রান্তিক ও নিম্নাংশের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিতে বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাৎসরিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এসব তথ্য নিশ্চিত করে। উক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রান্তিক পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা ও সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কার নিয়ে বিশ্ব উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হলে তারা এই উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

থাইল্যান্ড সফররত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থার প্রক্ষেপণ ও সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে ভুল সামাজিক নিরাপত্তা নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তালিকায় নানা ত্রুটির কারণে প্রায় ৮০ লাখ সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় যাদের প্রকৃতপক্ষে সহায়তার দরকার ছিল তারা তালিকা থেকে বাদ পড়েন এবং অনাহুত অনেকেই সুবিধা নেন। ফলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই ভুলভ্রান্তি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি হতে বেরিয়ে এসে সার্বিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর আরও উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানামুখী সঠিক পদক্ষেপের কারণে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে দেশে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধির হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও লুটপাট হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের লুটপাটের ধাক্কা সামলাতে খাতটিতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট কাটাতে রেজল্যুশন অ্যাক্ট প্রয়োগসহ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনো বাধা ছাড়াই তুলতে পারছেন এবং নতুন আমানত রাখছেন।

সবশেষে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম ধরে রাখা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট সত্ত্বেও কোনো নাগরিক যেন নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে না যান, সে বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডকে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকরী পদক্ষেপ বলল আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকট ও মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সামলে প্রান্তিক ও নিম্নাংশের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিতে বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাৎসরিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এসব তথ্য নিশ্চিত করে। উক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রান্তিক পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা ও সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কার নিয়ে বিশ্ব উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হলে তারা এই উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

থাইল্যান্ড সফররত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থার প্রক্ষেপণ ও সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে ভুল সামাজিক নিরাপত্তা নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তালিকায় নানা ত্রুটির কারণে প্রায় ৮০ লাখ সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় যাদের প্রকৃতপক্ষে সহায়তার দরকার ছিল তারা তালিকা থেকে বাদ পড়েন এবং অনাহুত অনেকেই সুবিধা নেন। ফলে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই ভুলভ্রান্তি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি হতে বেরিয়ে এসে সার্বিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর আরও উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানামুখী সঠিক পদক্ষেপের কারণে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে দেশে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধির হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও লুটপাট হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের লুটপাটের ধাক্কা সামলাতে খাতটিতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট কাটাতে রেজল্যুশন অ্যাক্ট প্রয়োগসহ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনো বাধা ছাড়াই তুলতে পারছেন এবং নতুন আমানত রাখছেন।

সবশেষে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ও এক্সপোর্ট গেটওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম ধরে রাখা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট সত্ত্বেও কোনো নাগরিক যেন নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে না যান, সে বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।