যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অসদাচরণ ও লাঞ্ছনার অপচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিশেষ বিবৃতিতে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জেএফকে বিমানবন্দরে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালিয়েছে শেখ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা। গণঅভ্যুত্থানে পলায়ন করা পতিত সরকারের সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড মূলত তাদের অনুশোচনার অভাব এবং দেশবিরোধী চক্রান্তের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার কারণেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর ওপর এই ধরনের জঘন্য আক্রমণ চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ড. ইউনূস শুধু বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই নন, তিনি একজন নোবেল লরিয়েট ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। বিদেশে তাঁর সঙ্গে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করে প্রকৃতপক্ষে গোটা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ও এর নাগরিকদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আওয়ামী অপশাসনের দীর্ঘ শাসনামলে দেশজুড়ে গুম, খুন ও সন্ত্রাস রাজত্ব কায়েম ছিল; এখন দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সেই অপশক্তির দোসরা একই হিংসাশ্রয়ী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশের মাটিতে সংঘটিত এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তপরায়ণ মনোভাব ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতা হারিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো দেশে-বিদেশে কর্মীদের উস্কানি দিচ্ছেন এবং বাংলাদেশে নানামুখী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ জোগাচ্ছেন বলে দেশবাসীর কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। বিবৃতি শেষে প্রবীণ এই নেতা অনতিবিলম্বে দেশের বাইরে অবস্থানরত এসব দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।






















