বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বহুমাত্রিক বিনিয়োগ, গবেষণা এবং প্রদর্শনী শিল্পের ব্যাপক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) একাডেমি।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার গুলশানে অবস্থিত বিসিসিসিআই কার্যালয়ে সিসিপিআইটি একাডেমির প্রেসিডেন্ট ঝাও পিংয়ের নেতৃত্বে আসা দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিসিসিসিআই নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিসিসিসিআইয়ের মহাসচিব জামিলুর রহমান চীনা প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বৈঠকে সিসিপিআইটি একাডেমির প্রেসিডেন্ট ঝাও পিং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিশাল ভোক্তা বাজার, জনমিতিক সম্ভাবনা এবং উদীয়মান ব্যবসায়িক সুযোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে চলমান গবেষণায় বিসিসিসিআইয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় চীনের সরকারি নীতি ও আধুনিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর সিসিপিআইটি একাডেমির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষের আলোচনায় জ্বালানি খাত, প্রদর্শনী শিল্প এবং গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়কে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এলপিজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, আধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ খাতে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের প্রদর্শনীকেন্দ্রের আধুনিক অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), সৌরশক্তি এবং খাদ্যপণ্যের বিশেষায়িত প্রদর্শনী আয়োজন এবং বিভিন্ন কৌশলগত খাতে যৌথ গবেষণার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উঠে আসে বৈঠকে।
বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের দুই প্রতিষ্ঠানের গত এক দশকের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে চীনের প্রধান প্রধান বাণিজ্য প্রদর্শনী ও পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সিসিপিআইটির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উক্ত বৈঠকে বিসিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খন্দকার আতিকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, উপদেষ্টা মো. ফয়জুল আলম এবং পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সমাপনীতে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা পরিচালনা, উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর, সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ এবং প্রদর্শনী শিল্পের পারস্পরিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ব্যবসায়িক ও বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক আরও এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে।






















