দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্যই চুয়েটে যোগদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় অবরুদ্ধ দশা থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের পর্যালোচনার পর শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
অবরুদ্ধ থাকাকালীন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এবং একপর্যায়ে তিনি নিজেসহ বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমে তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পদত্যাগ করা কিংবা ভবিষ্যতে আর চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার গুঞ্জনকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না—এ রকম কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। যখন আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আমার কথা বলার মতো শারীরিক পরিস্থিতি ছিল না। যারা এ ধরনের অসত্য সংবাদ ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করুন।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘তোমরা তোমাদের অমূল্য শিক্ষাজীবন নষ্ট কোরো না। তোমরা হয়তো কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পাল্লায় পড়ে ব্যবহৃত হচ্ছ। তোমরা যথেষ্ট বুদ্ধিমান, কারও দ্বারা ব্যবহৃত হবে না—এটা আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


























