Dhaka ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রবাসীরা আমাদের দেশের প্রকৃত সোনার মানুষ: প্রতিমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, সেই প্রবাসী শ্রমিকদের অভিহিত করে তাদের দেশের ‘সোনার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি গবেষণামূলক সংস্থা রামরুর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি জুম ও গুগল মিটের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, প্রধানত তিনটি বড় ও সাধারণ সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসী সমাজ।

এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমত, দেশে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করতে গেলেও অনেক সময় অসহনীয় দালালচক্রের খপ্পরে পড়তে হয়। পাসপোর্ট সেবায় এই দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম্য যেকোনো মূল્યે বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, বহু প্রবাসী অনেক আশা নিয়ে বিশাল ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমান, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি বা কাজের সন্ধান পান না। ফলে চরম বিপাকে পড়ে তাদের মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশনগুলোতে যথাসময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে প্রবাসীদের নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোর কাস্টমস ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনার কথাও প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ করেন।

প্রবাসীদের বহুমুখী এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ১১টি সুনির্দিষ্ট খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার রূপরেখা তৈরি করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সম্মান ও নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে এই কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এই বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’-এর বহুমুখী সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীরা দৈনন্দিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মৌলিক ও ব্যক্তিগত তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যার ফলে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে ফিরে যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রাপ্তি অনেকটাই সহজ হবে। এমনকি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনেক প্রবাসী দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে নিজেদের পৈতৃক বা কেনা জমিজমা নিয়ে নানা ধরনের স্থানীয় বিরোধ ও হয়রানির শিকার হন। এই ধরনের জটিলতা ও হয়রানি রোধে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে আইনি প্রতিকার বা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার একটি বিশেষ দ্রুতগতির ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করার জন্য সরকার বর্তমানে ৩ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের কারণে জনগণের আস্থার মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছিল। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’-কে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় এনে প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য সুদের হার সহনীয় ও লভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার যে সুযোগ রয়েছে, তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ফিরে দেশে স্বাধীনভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে চাইলে, নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাইলে কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বাড়ি নির্মাণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পেতে চাইলে এই ব্যাংক তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। অবৈধ হুন্ডি ও চোরাই পথ পরিহার করে প্রবাসীরা যাতে সবসময় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান এবং মানবপাচারকারীদের অবৈধ ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকেন, সে বিষয়েও সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে দেশের বিগত পাঁচ দশকের উন্নয়নযাত্রায় বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী তরুণ সমাজকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রবাসীরা আমাদের দেশের প্রকৃত সোনার মানুষ: প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, সেই প্রবাসী শ্রমিকদের অভিহিত করে তাদের দেশের ‘সোনার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি গবেষণামূলক সংস্থা রামরুর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ২০০৮ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি জুম ও গুগল মিটের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, প্রধানত তিনটি বড় ও সাধারণ সমস্যায় জর্জরিত প্রবাসী সমাজ।

এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমত, দেশে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করতে গেলেও অনেক সময় অসহনীয় দালালচক্রের খপ্পরে পড়তে হয়। পাসপোর্ট সেবায় এই দুর্নীতি ও দালালদের দৌরাত্ম্য যেকোনো মূল્યે বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, বহু প্রবাসী অনেক আশা নিয়ে বিশাল ঋণ করে বিদেশে পাড়ি জমান, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি বা কাজের সন্ধান পান না। ফলে চরম বিপাকে পড়ে তাদের মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। তৃতীয়ত, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশনগুলোতে যথাসময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে প্রবাসীদের নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। এর পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোর কাস্টমস ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনার কথাও প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ করেন।

প্রবাসীদের বহুমুখী এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ১১টি সুনির্দিষ্ট খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার রূপরেখা তৈরি করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সম্মান ও নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে এই কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এই বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’-এর বহুমুখী সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রবাসীরা দৈনন্দিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মৌলিক ও ব্যক্তিগত তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যার ফলে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং দেশে ফিরে যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রাপ্তি অনেকটাই সহজ হবে। এমনকি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনেক প্রবাসী দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে নিজেদের পৈতৃক বা কেনা জমিজমা নিয়ে নানা ধরনের স্থানীয় বিরোধ ও হয়রানির শিকার হন। এই ধরনের জটিলতা ও হয়রানি রোধে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে, বিশেষ করে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে আইনি প্রতিকার বা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার একটি বিশেষ দ্রুতগতির ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করার জন্য সরকার বর্তমানে ৩ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের কারণে জনগণের আস্থার মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছিল। এই ভঙ্গুর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’-কে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় এনে প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য সুদের হার সহনীয় ও লভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে প্রবাসীদের ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার যে সুযোগ রয়েছে, তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশ থেকে ফিরে দেশে স্বাধীনভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে চাইলে, নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাইলে কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বাড়ি নির্মাণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পেতে চাইলে এই ব্যাংক তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। অবৈধ হুন্ডি ও চোরাই পথ পরিহার করে প্রবাসীরা যাতে সবসময় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান এবং মানবপাচারকারীদের অবৈধ ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকেন, সে বিষয়েও সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে দেশের বিগত পাঁচ দশকের উন্নয়নযাত্রায় বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী তরুণ সমাজকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।