Dhaka ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: জাহেদ উর রহমান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে হেনস্তা করার অপচেষ্টার ঘটনায় কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক যদি এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে কোনো অবস্থাতেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরতে আয়োজিত এক জনগুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব নীতিনির্ধারণী কথা বলেন।

ড. ইউনূসের সার্বিক নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে অশুভ উদ্দেশ্যে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের কঠিন সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করাই মূলত তার বিরুদ্ধে এই হেনস্তার অপচেষ্টার মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। ড. ইউনূসের পূর্ববর্তী সরকারের নীতি বা কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা কিংবা মতভেদ থাকতেই পারে এবং তিনি নিজেও দেশে বসে স্বাধীনভাবে সেই সমালোচনা করেছেন। তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিদেশের মাটিতে তাকে এভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী, জুলাই গণ-আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তিও বিদেশের মাটিতে একই ধরনের পরিকল্পিত হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এই ঘটনাগুলোকে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদী অপতৎপরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। ইতোমধ্যে ওই অভিনেত্রীর লাঞ্ছনার ঘটনায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ভিভিআইপি পদমর্যাদা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা প্রটোকলে কোনো ধরনের ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা সরকার গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার শতভাগ চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোক। দেশে ন্যায়বিচার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার স্বার্থেই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে। তাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলেও সরকারের কোনো নীতিগত সমস্যা নেই, বরং আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে তার পাওনা সাজা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকরা দেশের কিছু গণমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ বিদেশে হেনস্তার শিকার হলে সেটিকে নেতিবাচক ফ্রেমিং বা পক্ষপাতমূলকভাবে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবাদের ফ্রেমিংয়ের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটর করা। তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনাকে স্ব-স্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার একটি সুযোগ থাকে, তবে কেউ যদি উদ্ভব কোনো বয়ান বা অন্যায্য ফ্রেমিং দাঁড় করানোর চেষ্টা করে, তবে সচেতন নাগরিক সমাজে তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে কোনো গণমাধ্যম যদি সংবাদ পরিবেশনে সুনির্দিষ্ট আইনি সীমালঙ্ঘন করে বা কাউকে অন্যায়ভাবে চরিত্রহনন করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাইলে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হয়ে প্রচলিত আইনে প্রতিকার লাভ করতে পারেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: জাহেদ উর রহমান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে হেনস্তা করার অপচেষ্টার ঘটনায় কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক যদি এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে কোনো অবস্থাতেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরতে আয়োজিত এক জনগুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব নীতিনির্ধারণী কথা বলেন।

ড. ইউনূসের সার্বিক নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে অশুভ উদ্দেশ্যে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের কঠিন সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করাই মূলত তার বিরুদ্ধে এই হেনস্তার অপচেষ্টার মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। ড. ইউনূসের পূর্ববর্তী সরকারের নীতি বা কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা কিংবা মতভেদ থাকতেই পারে এবং তিনি নিজেও দেশে বসে স্বাধীনভাবে সেই সমালোচনা করেছেন। তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বিদেশের মাটিতে তাকে এভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী, জুলাই গণ-আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তিও বিদেশের মাটিতে একই ধরনের পরিকল্পিত হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এই ঘটনাগুলোকে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদী অপতৎপরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। ইতোমধ্যে ওই অভিনেত্রীর লাঞ্ছনার ঘটনায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ভিভিআইপি পদমর্যাদা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা প্রটোকলে কোনো ধরনের ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা সরকার গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার শতভাগ চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোক। দেশে ন্যায়বিচার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার স্বার্থেই তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে। তাকে অবিলম্বে বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলেও সরকারের কোনো নীতিগত সমস্যা নেই, বরং আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে তার পাওনা সাজা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকরা দেশের কিছু গণমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ বিদেশে হেনস্তার শিকার হলে সেটিকে নেতিবাচক ফ্রেমিং বা পক্ষপাতমূলকভাবে সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সংবাদের ফ্রেমিংয়ের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটর করা। তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনাকে স্ব-স্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার একটি সুযোগ থাকে, তবে কেউ যদি উদ্ভব কোনো বয়ান বা অন্যায্য ফ্রেমিং দাঁড় করানোর চেষ্টা করে, তবে সচেতন নাগরিক সমাজে তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে কোনো গণমাধ্যম যদি সংবাদ পরিবেশনে সুনির্দিষ্ট আইনি সীমালঙ্ঘন করে বা কাউকে অন্যায়ভাবে চরিত্রহনন করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ চাইলে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হয়ে প্রচলিত আইনে প্রতিকার লাভ করতে পারেন।