Dhaka ১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির সিদ্ধান্ত

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সরকারের এই নীতিনির্ধারণী অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।

বৈঠককালে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে চায় বর্তমান সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান সব ধরনের বাণিজ্যিক শুল্ক ও অণুগতো বাধা দূর করা, দ্বিপক্ষীয় নতুন নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্রসমূহ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা এবং উভয় দেশের মূলধারার ব্যবসায়ী ও চেম্বারগুলোর মধ্যে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে ওমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। উভয় দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার এক পর্যায়ে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ কার্যকর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পর্যালোচনা, বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রমী প্রবাসীরা ওমানের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত ‘বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ধাপে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক আয়োজন এবং পরবর্তীতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সফরের বিষয়েও বৈঠকে একমত প্রকাশ করা হয়।

ওমানের দূত সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দরসহ দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি দূরদর্শী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের বিপুল সুযোগের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। এসব আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ নানা পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তাছাড়া, ওমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের দক্ষ নারী কারিগরদের অসামান্য নৈপুণ্য ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওমানি রাষ্ট্রদূত। একই সাথে তিনি ওমানে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকদের শ্রমবাজার বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক কাজের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধিতে জোর দেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ওমান দূতাবাসের উর্ধ্বতন প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সঙ্গে বিদ্যমান বিশাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সরকারের এই নীতিনির্ধারণী অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।

বৈঠককালে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে চায় বর্তমান সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান সব ধরনের বাণিজ্যিক শুল্ক ও অণুগতো বাধা দূর করা, দ্বিপক্ষীয় নতুন নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্রসমূহ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা এবং উভয় দেশের মূলধারার ব্যবসায়ী ও চেম্বারগুলোর মধ্যে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে ওমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। উভয় দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার এক পর্যায়ে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ কার্যকর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পর্যালোচনা, বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশি কঠোর পরিশ্রমী প্রবাসীরা ওমানের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত ‘বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ধাপে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক আয়োজন এবং পরবর্তীতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সফরের বিষয়েও বৈঠকে একমত প্রকাশ করা হয়।

ওমানের দূত সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দরসহ দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি দূরদর্শী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের বিপুল সুযোগের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। এসব আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ নানা পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তাছাড়া, ওমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের দক্ষ নারী কারিগরদের অসামান্য নৈপুণ্য ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওমানি রাষ্ট্রদূত। একই সাথে তিনি ওমানে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকদের শ্রমবাজার বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক কাজের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধিতে জোর দেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ওমান দূতাবাসের উর্ধ্বতন প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।