সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত মর্মান্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক রয়েছে। তবে গুরুতর আহত ৫ জন বাংলাদেশির মধ্যে বাকি ৪ জন বর্তমানে সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। এই অনভিপ্রেত হামলায় সামগ্রিক পরিসংখ্যানে মোট দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে প্রেরিত এক সর্বশেষ বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দর এলাকায় ওই হামলার ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ জন নিহত এবং ৩৫০ জনের মতো মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
হামলার সময় বিমানবন্দরে অবস্থানরত আহত ২৭ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদিতে কর্মরত প্রবাসী এবং বাকি ১৬ জন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি যাত্রী। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ইতিমধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে বাকি ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গুরুতর আহত পাঁচজন বাংলাদেশির শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের মধ্যে চারজন আশঙ্কামুক্ত হলেও ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গমনকারী নওগাঁ জেলার বাসিন্দা সাফফাত রহমানের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহত সকল বাংলাদেশির সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খোঁজখবর রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে আকস্মিক এই হামলার পর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী এবং দেশটি থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি যাত্রী রিয়াদের বিমানবন্দরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকা পড়েন। তাদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আটকেপাদের মধ্যে ওমরাহ পালনে আসা ১৭ জনকে মেরিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু হোটেল এবং অপর ৪০ জনকে রিয়াদের স্বনামধন্য প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পাশাপাশি, রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় চারশত বাংলাদেশি যাত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বাত্মক সহায়তায় এই যাত্রীদের সড়কপথে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে পাঠানোর সুব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, এমন তিন জন বাংলাদেশি নাগরিকের অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।
হামলার ঘটনার পর সার্বিক নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের স্বার্থে সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সকল প্রকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। দূতাবাসের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী পাঠানো, রিয়াদ থেকে সাধারণ কর্মী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মৃত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের সার্বিক অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেখানে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে যেকোনো জরুরি সেবা প্রদান করতে দূতাবাস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।






















