Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ শিকারে ২৪ জেলের কারাদণ্ড

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

দেশজুড়ে চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন মেঘনা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ২৮ জন জেলেকে আটক করেছে একটি যৌথ টাস্কফোর্স দল। সরকারের প্রবর্তিত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আটককৃতদের মধ্যে বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যথাযথ অভিভাবকের নিকট থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন দুর্গম পয়েন্টে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ি এবং স্থানীয় কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। পুরো অভিযানটির সার্বিক নেতৃত্ব ও তদারকি করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন করার উদ্দেশ্যে সরকার নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স দল আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২৪ জন জেলেকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

টাস্কফোর্সের এই সাঁড়াশি অভিযান চলাকালে নদী থেকে প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ছয়টি মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত মৎস্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধারকৃত তাজা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় দুস্থ ও এতিম শিশুদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীর সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকার নির্ধারিত এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে যেকোনো মূল্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপনন থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকার সকল সাধারণ জেলে ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা ও আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ শিকারে ২৪ জেলের কারাদণ্ড

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন মেঘনা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ২৮ জন জেলেকে আটক করেছে একটি যৌথ টাস্কফোর্স দল। সরকারের প্রবর্তিত নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আটককৃতদের মধ্যে বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যথাযথ অভিভাবকের নিকট থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন দুর্গম পয়েন্টে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ি এবং স্থানীয় কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়। পুরো অভিযানটির সার্বিক নেতৃত্ব ও তদারকি করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন এবং বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন করার উদ্দেশ্যে সরকার নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স দল আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২৪ জন জেলেকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

টাস্কফোর্সের এই সাঁড়াশি অভিযান চলাকালে নদী থেকে প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ছয়টি মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে প্রচলিত মৎস্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে উদ্ধারকৃত তাজা ইলিশ মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় দুস্থ ও এতিম শিশুদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীর সমগ্র উপকূলীয় এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকার নির্ধারিত এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে যেকোনো মূল্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপনন থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকার সকল সাধারণ জেলে ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা ও আহ্বান জানানো হয়েছে।