কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান সব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সাথে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও চিকিৎসক পুনর্মিলনী ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বেসরকারি ক্লিনিক বা চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত সরঞ্জামের মতোই সরকারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতিও যেন নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন তিনি চান চিকিৎসক যেন মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন এবং পরামর্শ দেন। রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা ফেরানো সম্ভব।
পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চিকিৎসকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
নবীন চিকিৎসকদের মানবেতর কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আন্তরিকতা ও সেবামুখী আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এতে কলেজের অন্যান্য চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।


























