Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মা ইলিশ সংরক্ষণে বরগুনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অবসর সময়ে জাল বুনছেন জেলেরা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ ও দেশের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ে দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা মান্য করে বরগুনার হাজারও জেলে ইতোমধ্যে নদী ও সাগর থেকে ঘাটে ট্রলার নোঙর করে ফিরিয়ে এনেছেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটালেও অবসর সময়টিতে জাল বোনা, পুরোনো জাল মেরামত করা ও ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বার্তা২৪.কম-এর বরগুনা প্রতিনিধি এক সরজমিন প্রতিবেদনে এসব চিত্র তুলে ধরেন।

বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, ট্রলার ও নৌকা তীরে বাঁধাই করে জেলেরা অলস সময় কাটানোর পাশাপাশি দল বেঁধে জাল বুনে সময় পার করছেন। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, জাল বোনার কাজ থেকে দৈনিক প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মিটানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর চাল সহায়তা প্রাপ্তি ও পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, বাংলাদেশে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা একই সময়ে কঠোর আইনি সীমানায় না থাকায় তারা বাংলাদেশের জলসীমায় অনায়াসে ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও স্থানীয় ট্রলার মাঝিরা দাবি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা গেলে দেশের মৎস্য সম্পদ প্রকৃত অর্থেই সংরক্ষিত হবে। পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তারা।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানিয়েছেন, ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বর্তমানে জেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলার মোট ৫২ হাজার ৪৭৬ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৯৭৬ জনকে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল প্রদান করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জেলে নদী বা সাগরে নামলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মা ইলিশ সংরক্ষণে বরগুনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অবসর সময়ে জাল বুনছেন জেলেরা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ ও দেশের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এ সময়ে দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা মান্য করে বরগুনার হাজারও জেলে ইতোমধ্যে নদী ও সাগর থেকে ঘাটে ট্রলার নোঙর করে ফিরিয়ে এনেছেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটালেও অবসর সময়টিতে জাল বোনা, পুরোনো জাল মেরামত করা ও ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বার্তা২৪.কম-এর বরগুনা প্রতিনিধি এক সরজমিন প্রতিবেদনে এসব চিত্র তুলে ধরেন।

বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে, ট্রলার ও নৌকা তীরে বাঁধাই করে জেলেরা অলস সময় কাটানোর পাশাপাশি দল বেঁধে জাল বুনে সময় পার করছেন। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, জাল বোনার কাজ থেকে দৈনিক প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মিটানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর চাল সহায়তা প্রাপ্তি ও পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, বাংলাদেশে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা একই সময়ে কঠোর আইনি সীমানায় না থাকায় তারা বাংলাদেশের জলসীমায় অনায়াসে ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও স্থানীয় ট্রলার মাঝিরা দাবি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা গেলে দেশের মৎস্য সম্পদ প্রকৃত অর্থেই সংরক্ষিত হবে। পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তারা।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন জানিয়েছেন, ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বর্তমানে জেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলার মোট ৫২ হাজার ৪৭৬ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৯৭৬ জনকে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল প্রদান করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জেলে নদী বা সাগরে নামলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।