রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃক বাস্তবায়িত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পাঁচটি পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত মুছে ফেলা এই ঐতিহাসিক ফলকগুলো পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে নগরীর আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ইতিহাসকে নতুন করে সম্মান জানানো হলো।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাট চত্বরে আয়োজিত এক প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুনঃস্থাপিত এই ফলকগুলো উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মিনু। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা বাজার’-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
উন্মোচিত প্রকল্পগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এই প্রকল্পের স্মারক হিসেবে তিনটি পৃথক ভিত্তিপ্রস্তর ফলক ঘোষপাড়া মোড়, মেডিকেল বন্ধগেট মোড় এবং সিটি হাট-উত্তর নওদাপাড়া মোড়ে স্থাপন করা হয়েছিল।
একই দিনে (৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৫) তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মোঃ সাইফুর রহমান গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আধুনিক নর্দমা নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ২০০৪ সালের ১৫ অক্টোবর তৎকালীন রাসিক মেয়র ও বর্তমান ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর মোড় প্রশস্তকরণ ও শহর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজশাহী নগরীর অবকাঠামোগত রূপান্তরের মূল কারিগরদের নাম সংবলিত এই তিনটি প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলকই সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা ও বিনষ্ট করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ফলকগুলো নিখুঁতভাবে পুনঃস্থাপন ও পুনঃউন্মোচনের মাধ্যমে রাজশাহী নগর উন্নয়নের ঐতিহাসিক সত্য ও স্মৃতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলো।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ।
অনুষ্ঠানে রাসিকের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-ঈ সাঈদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদূর রহমান ইমনসহ অন্যান্য প্রকৌশলীবৃন্দ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির প্রবীণ ও নবীন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও থানা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।






















