আধুনিক সভ্যতার এই যুগে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা। বর্তমান সময়ে অস্থিরতা, বিষণ্ণতা, হতাশা ও দুশ্চিন্তা মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক রোগের পাশাপাশি মানসিক রোগের প্রকোপ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানুষ শারীরিক সুস্থতার জন্য যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ততটাই উদাসীন। অথচ ইসলাম শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মানসিক প্রশান্তি অর্জনে অত্যন্ত জোরালো গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার চমৎকার কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা অনুসরণ করলে হতাশামুক্ত ও প্রশান্ত জীবন লাভ করা সম্ভব।
১. সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণ: মানসিক অস্থিরতা ও বিষণ্ণতা দূর করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো আল্লাহর স্মরণ। মানুষ যখন পার্থিব মোহে ডুবে সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যায়, তখন তার মনে হতাশা দানা বাঁধে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা আর-রাদ: ২৮)। নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে মানুষ মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারে।
২. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা বা তাওয়াক্কুল: ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত আশঙ্কা মানুষের মানসিক শান্তি নষ্ট করে। ইসলাম শিক্ষা দেয়, নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করার পর চূড়ান্ত ফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করতে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক: ৩)। এই বিশ্বাস মানুষের মনের সব হতাশা দূর করে দেয়।
৩. বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ: মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ পর্যায়ক্রমে আসে। বিপদের সময় অনেকেই দ্রুত হতাশ হয়ে পড়েন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়ে বলেছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৫৩)।


























