Dhaka ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধে ইসলামি অনুশাসন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই ধরণী। কিন্তু এখানের সব সম্পদ অফুরন্ত বা নবায়নযোগ্য নয়। যেসব সম্পদ অনবায়নযোগ্য বা ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায়, তা ব্যবহারে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। অন্যথায়, একসময় দেখা যাবে—ব্যবহার উপযোগী সম্পদের পরিমাণ ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে গেছে। অবশ্য আমরা সম্পদ ব্যবহার করব, তবে তা হতে হবে যথাযথ এবং পরিমিত। কোনোভাবেই অযথা সম্পদের অপচয় করা যাবে না, কারণ সঠিক ব্যবহারেই মূলত সম্পদ বৃদ্ধি পায়। সচেতনতার অভাবে সমাজে প্রচুর সম্পদের অপচয় হয়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো বিভিন্ন সরকারি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুটি সম্পদের অপচয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—প্রথমত, বিদ্যুতের অপচয় এবং দ্বিতীয়ত, পানির অপচয়। যদিও আরও নানা ধরনের সম্পদের অপচয় ঘটে, তবে এই দুটি সবচেয়ে প্রধান। দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ চিত্র হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন সরকারি অফিসে বৈদ্যুতিক ফ্যান, লাইট ও এসি সারাদিন চালু রাখা হয়। অনেক সময় অপ্রয়োজনে পানির কল বা নল খোলাও থাকে, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নিয়মিত দেখা যায়। পানির কল খোলা থাকলে পানির অপচয় ক্রমাগত হতেই থাকে।

বিদ্যুতের সংকট বর্তমানে দেশবাসীর কারও অজানা নয়। দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সর্বস্তরেই বিরাজমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি করে এই সংকট সাময়িকভাবে দূর করা সম্ভব হলেও, অপচয়ের মাত্রা না কমলে এই সংকট বারবার ফিরে আসবে। অপচয় রোধ বা যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করলে হয়তো একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে আরও অনেক বেশি দিন জোগান দেওয়া সম্ভব, যা সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে। পানির বিষয়টিও প্রায় একই রকম। পানি হয়তো আপাতদৃষ্টিতে অফুরন্ত সম্পদ, কিন্তু এর উৎস অনেক হলেও সুপেয় পানির পরিমাণ সীমিত। অপচয়ের ফলে একসময় সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়া অনিবার্য। আবার পানিদূষণের কারণেও পানযোগ্য পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমান। এর বড় উদাহরণ রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বাসিন্দারা চাইলেই যেকোনো পানির কল থেকে সরাসরি নিরাপদ পানি পান করতে পারে না, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর একটি বার্তা। এভাবে পানির সঠিক ব্যবহার না করলে ভবিষ্যতে সুপেয় পানির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা আমাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কোরআন মাজিদে সম্পদের অপচয় সম্পর্কে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয়েছে, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো, খাও এবং পান করো…’

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধে ইসলামি অনুশাসন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:০১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই ধরণী। কিন্তু এখানের সব সম্পদ অফুরন্ত বা নবায়নযোগ্য নয়। যেসব সম্পদ অনবায়নযোগ্য বা ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায়, তা ব্যবহারে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। অন্যথায়, একসময় দেখা যাবে—ব্যবহার উপযোগী সম্পদের পরিমাণ ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে গেছে। অবশ্য আমরা সম্পদ ব্যবহার করব, তবে তা হতে হবে যথাযথ এবং পরিমিত। কোনোভাবেই অযথা সম্পদের অপচয় করা যাবে না, কারণ সঠিক ব্যবহারেই মূলত সম্পদ বৃদ্ধি পায়। সচেতনতার অভাবে সমাজে প্রচুর সম্পদের অপচয় হয়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো বিভিন্ন সরকারি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুটি সম্পদের অপচয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—প্রথমত, বিদ্যুতের অপচয় এবং দ্বিতীয়ত, পানির অপচয়। যদিও আরও নানা ধরনের সম্পদের অপচয় ঘটে, তবে এই দুটি সবচেয়ে প্রধান। দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ চিত্র হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন সরকারি অফিসে বৈদ্যুতিক ফ্যান, লাইট ও এসি সারাদিন চালু রাখা হয়। অনেক সময় অপ্রয়োজনে পানির কল বা নল খোলাও থাকে, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নিয়মিত দেখা যায়। পানির কল খোলা থাকলে পানির অপচয় ক্রমাগত হতেই থাকে।

বিদ্যুতের সংকট বর্তমানে দেশবাসীর কারও অজানা নয়। দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সর্বস্তরেই বিরাজমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি করে এই সংকট সাময়িকভাবে দূর করা সম্ভব হলেও, অপচয়ের মাত্রা না কমলে এই সংকট বারবার ফিরে আসবে। অপচয় রোধ বা যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করলে হয়তো একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে আরও অনেক বেশি দিন জোগান দেওয়া সম্ভব, যা সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে। পানির বিষয়টিও প্রায় একই রকম। পানি হয়তো আপাতদৃষ্টিতে অফুরন্ত সম্পদ, কিন্তু এর উৎস অনেক হলেও সুপেয় পানির পরিমাণ সীমিত। অপচয়ের ফলে একসময় সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়া অনিবার্য। আবার পানিদূষণের কারণেও পানযোগ্য পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমান। এর বড় উদাহরণ রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বাসিন্দারা চাইলেই যেকোনো পানির কল থেকে সরাসরি নিরাপদ পানি পান করতে পারে না, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর একটি বার্তা। এভাবে পানির সঠিক ব্যবহার না করলে ভবিষ্যতে সুপেয় পানির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা আমাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কোরআন মাজিদে সম্পদের অপচয় সম্পর্কে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলা হয়েছে, ‘হে বনি আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো, খাও এবং পান করো…’