ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভোজ্য তেল, ডিম, মুরগি, আটা, ময়দা, চাল, পেঁয়াজ ও আলুসহ দেশের সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগসাজশমূলক ও সিন্ডিকেটনির্ভর কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর অত্যন্ত জোরালো গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির মাননীয় সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।
উক্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কমিটির বিশিষ্ট সদস্য ও মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু, হেলেন জেরিন খান, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজী এনামুল হক এবং আব্দুল মুনতাকিম সশরীরে অংশগ্রহণ করে দেশের সার্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ও জনস্বার্থসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।
বৈঠকের কার্যবিবরণী ও আলোচনা অনুযায়ী, সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে একটি অধিকতর সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বনের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেকোনো মূল্যে প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপক বা দুস্থরাই যেন এই কার্ডগুলো সঠিকভাবে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কমিটি মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করেছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি (LDC) তালিকা হতে একটি আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশে সফলভাবে উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, দেশের সর্বস্তরে এবং সকল পর্যায়ে সরকারি সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জোরালো সুপারিশ করেছে।
পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে পূর্ববর্তী বৈঠকের কার্যবিবরণী সর্বসম্মতভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ মুক্ত আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের বর্তমান জনবল পরিস্থিতি, দপ্তসমূহের সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী, বিগত দিনগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ এবং আমদানি-রপ্তানি ও সরকারের সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে বিশেষ এজেন্ডা হিসেবে বিগত তিন বছরে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিমূল্য এবং স্থানীয় খুচরা বাজারমূল্যের বিশাল ব্যবধান ও তার নেতিবাচক প্রভাব খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চলমান অনুসন্ধান, তদন্ত কার্যক্রম, আদালতের বিভিন্ন মামলার রায় ও আদেশের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা-বিরোধী যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট চুক্তি, যোগসাজশ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো ক্ষতিকর অপরাধমূলক কার্যক্রমগুলোকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করার নিরলস চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
পাশাপাশি, বৈঠকে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য মিশনে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় ভাষা-জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া এবং পর্যাপ্ত পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাণিজ্য সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।






















