কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য সুকৌশলে গোপন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার দুই নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এ কে এম আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা গণমাধ্যমে জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, এই বহিষ্কৃত দুই স্থানীয় নেতা হলেন কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ৬ নম্বর বড়িবাড়ি ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির এবং একই ইউনিয়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. ফরহাদ মিয়া। প্রায় দেড় বছর ধরে দলের ভেতরে এই গোপন রাজনৈতিক পরিচয় লুকিয়ে রাখার পর সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় জেলা নেতৃত্ব এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
দলীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায় যে, গত বছরের ৭ জুন বড়িবাড়ি ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি স্থানীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়েছিল। ওই প্রাথমিক কমিটিতে মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং মো. ফরহাদ মিয়াকে যুগ্ম সমন্বয়কারীর গুরুদায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই সমন্বয় কমিটিকেই পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোয় রূপান্তর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দুই নেতা এই কমিটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে নেতৃত্ব দিতে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় সম্পৃক্ততার আসল তথ্য স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে জানাজানি হয়ে পড়ে। খতিয়ে দেখা যায় যে, বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির পূর্বে বড়িবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি পদে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অন্যদিকে, অপর নেতা ফরহাদ মিয়া ছিলেন একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সদস্যসচিব এ কে এম আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মতো সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের গোপন সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে লুকিয়ে রেখে দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করা দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শের চরম ও মারাত্মক লঙ্ঘন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ওই দুই নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল ধরনের দলীয় পদ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে চিরতরে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।


























