আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এই বরাদ্দের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এর আগে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় সেই নির্ধারিত পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বর্তমান সরকার এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় কোনো নাগরিকের মানবাধিকার, সমান অধিকার ও সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি আরও জোরালোভাবে বলেন যে, দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের সমান আইনি অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করাই সরকারের মূল ও সর্বোচ্চ লক্ষ্য। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, উক্ত মতবিনিময় সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ ও উদ্দীপনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মতবিনিময় পর্বে হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা, বর্তমান প্রয়োজন এবং নানা দাবি-দাওয়া অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রীর সমীপে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যগুলো শ্রবণ করেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন যে, সরকার দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু করা সম্ভব, তার সর্বোচ্চটুকু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে এবং প্রতিনিধিদের উত্থাপিত সকল যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাসমূহ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করবে। এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিত প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলো সশরীরে পরিদর্শনের জন্য উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান যে, প্রধানমন্ত্রী আলাপকালে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নাগরিকদেরও শুভেচ্ছা জানান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্ত নাগরিকের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের পবিত্র শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ৫ কোটি টাকার এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে ৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।






















