Dhaka ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বন্দর নিয়ে আন্দোলন সত্ত্বেও জনস্বার্থের সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না সরকার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের চলমান বিরোধিতার বিষয়ে সরকারের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারিসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে সরকার তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান যে, সরকার যখনই কোনো নীতিনির্ধারক সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই করা হয়। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়তো কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট সংগঠনের সংকীর্ণ স্বার্থের বিপরীতে যেতে পারে, কিন্তু সরকারের মূল লক্ষ্য ও বিবেচনা সবসময়ই বৃহত্তর জনস্বার্থ সুরক্ষা করা। তিনি আরও জানান, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটে, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং তাদের যথাযথভাবে আশ্বস্ত করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। শুধুমাত্র কিছু আন্দোলন বা প্রতিবাদের মুখে সরকার জনকল্যাণকর কোনো নীতিনির্ধারক অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বন্দর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়ে এবং বর্তমান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে তার কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে জানান যে, সংসদীয় বা অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাই করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হবে কি না, সে বিষয়েও সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাংলাদেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল, তার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাই কেবল এক বা দুই দিনের আন্তর্জাতিক বাজারদর বা সাময়িক ওঠানামা দেখে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির এই নিম্নমুখী ধারা কতটা টেকসই হয়, তা সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি স্বীকার করেন যে, জ্বালানির মূল্য বাড়লে অনিবার্যভাবে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক বিনিয়োগে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এবং মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়। এর ফলে দিনশেষে দেশের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হ্রাস পেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয়, মানুষের চাকরি বা আয় কমে যায়, যা কোনোভাবেই সরকারের কাম্য নয়। এই বাস্তবতার প্রতি সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, বর্তমান অক্টোবর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং পূর্বের নির্ধারিত হার অনুযায়ী বর্তমানে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বন্দর নিয়ে আন্দোলন সত্ত্বেও জনস্বার্থের সিদ্ধান্ত থেকে সরবে না সরকার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের চলমান বিরোধিতার বিষয়ে সরকারের কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারিসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে সরকার তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান যে, সরকার যখনই কোনো নীতিনির্ধারক সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করেই করা হয়। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়তো কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট সংগঠনের সংকীর্ণ স্বার্থের বিপরীতে যেতে পারে, কিন্তু সরকারের মূল লক্ষ্য ও বিবেচনা সবসময়ই বৃহত্তর জনস্বার্থ সুরক্ষা করা। তিনি আরও জানান, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটে, তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং তাদের যথাযথভাবে আশ্বস্ত করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। শুধুমাত্র কিছু আন্দোলন বা প্রতিবাদের মুখে সরকার জনকল্যাণকর কোনো নীতিনির্ধারক অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বন্দর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়ে এবং বর্তমান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে তার কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করে জানান যে, সংসদীয় বা অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাই করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হবে কি না, সে বিষয়েও সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, বাংলাদেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল, তার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাই কেবল এক বা দুই দিনের আন্তর্জাতিক বাজারদর বা সাময়িক ওঠানামা দেখে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির এই নিম্নমুখী ধারা কতটা টেকসই হয়, তা সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি স্বীকার করেন যে, জ্বালানির মূল্য বাড়লে অনিবার্যভাবে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সার্বিক বিনিয়োগে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে এবং মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়। এর ফলে দিনশেষে দেশের সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হ্রাস পেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয়, মানুষের চাকরি বা আয় কমে যায়, যা কোনোভাবেই সরকারের কাম্য নয়। এই বাস্তবতার প্রতি সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়েছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, বর্তমান অক্টোবর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং পূর্বের নির্ধারিত হার অনুযায়ী বর্তমানে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।