Dhaka ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ ও সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা এবং রাজস্ব আহরণের অত্যন্ত সীমিত সক্ষমতার কারণে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। তবে সরকারের কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

অর্থনৈতিক এই স্থবিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। বিশেষ করে আর্থিক খাতের ঝুঁকি দিন দিন গভীর হচ্ছে; ২০২৬ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের হার মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ায় তা বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সরকারের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার পরিসর সংকুচিত করে তুলছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ এবং জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবিলম্বে সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’র সম্প্রসারণ এবং খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করার মতো লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি, যা বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ ও সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। জ্বালানি খাতের তীব্র সংকট, আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা এবং রাজস্ব আহরণের অত্যন্ত সীমিত সক্ষমতার কারণে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে। তবে সরকারের কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

অর্থনৈতিক এই স্থবিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। বিশেষ করে আর্থিক খাতের ঝুঁকি দিন দিন গভীর হচ্ছে; ২০২৬ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের হার মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ায় তা বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা সরকারের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার পরিসর সংকুচিত করে তুলছে।

পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ এবং জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবিলম্বে সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’র সম্প্রসারণ এবং খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করার মতো লক্ষ্যভিত্তিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি, যা বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।