Dhaka ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

‘না’ ভোট না দিয়ে একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে জামায়াত : আইনমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

​জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংক্রান্ত সংশোধিত বিলে ‘না’ সূচক ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে নিজেদের বিতর্কিত ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞায়িত করার প্রক্রিয়ায় আইনটি থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিল দলটির প্রতিনিধিরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিলটি পাসের সময় তারা কোনো ধরনের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকে।


​রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশিত এই বইটির লেখক দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি General ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিষয়ের গবেষক, চিন্তাবিদ, শিক্ষক ও বিশিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
​অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য জামায়াতের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা— সাবেক নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইয়ে স্পষ্টভাবে এই পরামর্শ তুলে ধরেছেন। মন্ত্রী মনে করেন, ২০১৬ সালেই যদি জামায়াত রাজ্জাকের এই অবস্থান মেনে নিত, তবে দলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বহু বিতর্ক ও জটিলতার অবসান ঘটত। শেষ পর্যন্ত সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নীরব থাকার মাধ্যমে তারা সেই চিন্তাকেই সত্য বলে মেনে নিয়েছে।


​বিলে জামায়াতের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংশোধন প্রক্রিয়ায় ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞার যে রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়, তাতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ও মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটিতে আলোচনার পর ঐতিহাসিক সত্যতা বজায় রাখতে ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যখন বিলটি সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উত্থাপিত হয়, তখন জামায়াতের কোনো আইনপ্রণেতাই এর বিপক্ষে ভোট দেননি।
​তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক ২০১৬ সালে জামায়াতের একাত্তর সালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে যে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা বা খসড়া তৈরি করেছিলেন, বর্তমানে জামায়াত সংসদে না-ভোট না দিয়ে সেই চিন্তাকেই পরোক্ষ সমর্থন জানাল। এটি রাজ্জাকের দূরদর্শী চিন্তারই প্রতিফলন।


​ইসলামিক রাষ্ট্রভাবনা ও পুস্তকটির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোই একটি সঠিক রাষ্ট্র পরিচালন প্রণালী; জোরপূর্বক ধর্মীয় বিধান চাপিয়ে দেওয়ার নীতি এক ধরনের রাজনৈতিক ভুল বা ফ্যালাসি। রাজ্জাকের লেখনীকে কেবল সাহিত্য বা গবেষণাগ্রন্থ না বলে একজন অভিজ্ঞ মানুষের বাস্তব জীবনের এনসাইক্লোপিডিয়া বা জীবনদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।


​একই সাথে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মূলধারার শীর্ষ জামায়াতপন্থী আইনজীবী বা দলটির বর্তমান নেতারা অনুপস্থিত থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকা উচিত, যা না থাকা দলটির সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। বইটিতে বিএনপি-র কাজেরও সমালোচনা রয়েছে এবং একটি পরিপক্ব সমাজ গঠনে সবারই এসব সমালোচনা ইতিবাচকভাবে ধারণ করার সক্ষমতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘না’ ভোট না দিয়ে একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে জামায়াত : আইনমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংক্রান্ত সংশোধিত বিলে ‘না’ সূচক ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে নিজেদের বিতর্কিত ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞায়িত করার প্রক্রিয়ায় আইনটি থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিল দলটির প্রতিনিধিরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিলটি পাসের সময় তারা কোনো ধরনের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকে।


​রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশিত এই বইটির লেখক দলটির সাবেক সহকারী সেক্রেটারি General ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিষয়ের গবেষক, চিন্তাবিদ, শিক্ষক ও বিশিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
​অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের জন্য জামায়াতের উচিত জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা— সাবেক নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইয়ে স্পষ্টভাবে এই পরামর্শ তুলে ধরেছেন। মন্ত্রী মনে করেন, ২০১৬ সালেই যদি জামায়াত রাজ্জাকের এই অবস্থান মেনে নিত, তবে দলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বহু বিতর্ক ও জটিলতার অবসান ঘটত। শেষ পর্যন্ত সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নীরব থাকার মাধ্যমে তারা সেই চিন্তাকেই সত্য বলে মেনে নিয়েছে।


​বিলে জামায়াতের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২২ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংশোধন প্রক্রিয়ায় ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞার যে রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়, তাতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ও মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটিতে আলোচনার পর ঐতিহাসিক সত্যতা বজায় রাখতে ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যখন বিলটি সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উত্থাপিত হয়, তখন জামায়াতের কোনো আইনপ্রণেতাই এর বিপক্ষে ভোট দেননি।
​তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক ২০১৬ সালে জামায়াতের একাত্তর সালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে যে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা বা খসড়া তৈরি করেছিলেন, বর্তমানে জামায়াত সংসদে না-ভোট না দিয়ে সেই চিন্তাকেই পরোক্ষ সমর্থন জানাল। এটি রাজ্জাকের দূরদর্শী চিন্তারই প্রতিফলন।


​ইসলামিক রাষ্ট্রভাবনা ও পুস্তকটির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোই একটি সঠিক রাষ্ট্র পরিচালন প্রণালী; জোরপূর্বক ধর্মীয় বিধান চাপিয়ে দেওয়ার নীতি এক ধরনের রাজনৈতিক ভুল বা ফ্যালাসি। রাজ্জাকের লেখনীকে কেবল সাহিত্য বা গবেষণাগ্রন্থ না বলে একজন অভিজ্ঞ মানুষের বাস্তব জীবনের এনসাইক্লোপিডিয়া বা জীবনদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।


​একই সাথে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মূলধারার শীর্ষ জামায়াতপন্থী আইনজীবী বা দলটির বর্তমান নেতারা অনুপস্থিত থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকা উচিত, যা না থাকা দলটির সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। বইটিতে বিএনপি-র কাজেরও সমালোচনা রয়েছে এবং একটি পরিপক্ব সমাজ গঠনে সবারই এসব সমালোচনা ইতিবাচকভাবে ধারণ করার সক্ষমতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।