যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। গত শনিবার টেনেসির গভর্নর বিল লি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি মাসেই নিজ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন স্ট্রাডা।
কারাপ্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা নিজেও তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ক্রিস্টা পাইককে দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে আছেন এবং পুরো ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় টেনেসিবাসীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। এই রায় কার্যকর হলে গত দুইশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারী হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। কিন্তু দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
আইনি নথিপত্র এবং আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ইনজেকশন প্রয়োগের সময় তাকে যন্ত্রণায় কান্নাকাটি ও জোরে শ্বাস নিতে দেখা গেছে বলে জানান আইনজীবীরা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ক্রিস্টার সাজা কমানোর আবেদন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আলামত সংরক্ষণের জন্য জরুরি আবেদন দাখিল করেছেন তার আইজীবীরা।
কারাপ্রধানের এই পদত্যাগকে যৌক্তিক হিসেবে দেখলেও আইনজীবীরা মনে করছেন এতে বন্দির বড় কোনো আইনি সুরাহা হবে না। তবে এই ঘটনা টেনেসির মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ত্রুটি ও গভীর সংকটকেই উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কারা বিভাগ তাদের নির্ধারিত প্রোটোকল ও পদ্ধতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।























