একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের মানুষের মাঝে নতুন আশা তৈরি হলেও বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিশৃঙ্খল অর্থনীতি বর্তমান প্রশাসনকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকটকালে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কষ্ট অনুধাবন করে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছে। সড়কে গ্যাস স্টেশনের দীর্ঘ সারি, কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাওয়া এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকার ফলে জনঅসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। এই সংকটের মূলে ছিল দীর্ঘমেয়াদী অবহেলা ও ভুল নীতি।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। অতীতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর বদলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার নীতি নেওয়া হয়। বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। অথচ দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে যথোপযুক্ত বিনিয়োগ করলে এই পরনির্ভরশীলতা এড়ানো সম্ভব ছিল। বাংলাদেশে ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও গত এক দশকে নতুন কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে জোরালো ভূমিকা রাখা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতের এই সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নতুন বিনিয়োগ এবং অফশোর ড্রিলিং কার্যক্রম দ্রুত শুরু না করলে জ্বালানি নিরাপত্তা টেকসই করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

























