Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বইয়ের ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বিবরণ, সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ। পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিহাস ও বাংলার পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত বিষয়বস্তু। এছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বিষয় ও পাঠ্যবই বাধ্যতামূলক হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

এনসিটিবির প্রস্তুতকৃত নতুন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্স নিয়ে লেখা বিশেষ সংকলন স্থান পাবে। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। একই বইয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যে স্থান পাচ্ছে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা; যেখানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়টি সংক্ষেপে এবং নবম শ্রেণিতে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাছাড়াও প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের বিকাশে ঐতিহাসিক নেতৃত্বের অবদান হিসেবে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল, সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান স্থান পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে।

অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে স্থান পাচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’। মূল রচনাটি কিছুটা পরিমার্জন ও সংক্ষিপ্ত করে বইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ লেখায় মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ স্মৃতিচারণ রয়েছে। একই সঙ্গে লেখক পরিচিতি অংশে তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন সামরিক দায়িত্ব ও পরবর্তী বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদসংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা হবে।

ভাষাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়নে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিরোনামের একটি নিবন্ধ, যেখানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগে একাধিক ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা, উপযোগিতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী শিক্ষা দিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই চালু করা হচ্ছে। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য পড়া বাধ্যতামূলক হলেও চিরাচরিত কোনো বার্ষিক পরীক্ষা থাকবে না; বরং ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন দুই বইয়ের মধ্যে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে সংস্কৃতির ধারণা, জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, মহান বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও সামাজিক চর্চার বিষয় থাকছে। অপর নতুন বই ‘খেলাধুলা’-তে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলা স্থান পেয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’-তে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, সমস্যা সমাধান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পেশা ও টেকসই সবুজ প্রযুক্তি স্থান পেয়েছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণির অপর বই ‘আনন্দময় শিক্ষা’-তে থাকবে নৈতিক মূল্যবোধ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত পাঠ।

এনসিটিবি জানায়, আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯টি বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০টি এবং ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০টি বই ছাপা হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ছাপা হবে প্রায় ১৮ কোটি বই, যার মধ্যে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫টি। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪টি ব্রেইল বই ছাপা হবে। এনসিটিবির হিসাবে এসব বই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মূল বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মুদ্রণ কাজ সঠিক গতিতে চলছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদ ফখরুল মাওলা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রামাণ্য সূত্রের ভিত্তিতে নির্ভুল তথ্য, ঐতিহাসিক সঠিকতা এবং মানসম্পন্ন ছাপা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বইগুলো সংস্কার করা হচ্ছে এবং ২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বইয়ের ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বিবরণ, সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ। পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিহাস ও বাংলার পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত বিষয়বস্তু। এছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বিষয় ও পাঠ্যবই বাধ্যতামূলক হিসেবে চালু করা হচ্ছে।

এনসিটিবির প্রস্তুতকৃত নতুন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্স নিয়ে লেখা বিশেষ সংকলন স্থান পাবে। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। একই বইয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যে স্থান পাচ্ছে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা; যেখানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিষয়টি সংক্ষেপে এবং নবম শ্রেণিতে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাছাড়াও প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের বিকাশে ঐতিহাসিক নেতৃত্বের অবদান হিসেবে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল, সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর অবদান স্থান পাচ্ছে পাঠ্যবইয়ে।

অন্যদিকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে স্থান পাচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’। মূল রচনাটি কিছুটা পরিমার্জন ও সংক্ষিপ্ত করে বইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ লেখায় মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ স্মৃতিচারণ রয়েছে। একই সঙ্গে লেখক পরিচিতি অংশে তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন সামরিক দায়িত্ব ও পরবর্তী বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদসংক্রান্ত ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা হবে।

ভাষাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার উন্নয়নে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিরোনামের একটি নিবন্ধ, যেখানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগে একাধিক ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা, উপযোগিতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী শিক্ষা দিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই চালু করা হচ্ছে। এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য পড়া বাধ্যতামূলক হলেও চিরাচরিত কোনো বার্ষিক পরীক্ষা থাকবে না; বরং ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন দুই বইয়ের মধ্যে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে সংস্কৃতির ধারণা, জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, মহান বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও সামাজিক চর্চার বিষয় থাকছে। অপর নতুন বই ‘খেলাধুলা’-তে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলা স্থান পেয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’-তে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, সমস্যা সমাধান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পেশা ও টেকসই সবুজ প্রযুক্তি স্থান পেয়েছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণির অপর বই ‘আনন্দময় শিক্ষা’-তে থাকবে নৈতিক মূল্যবোধ, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত পাঠ।

এনসিটিবি জানায়, আসন্ন শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯টি বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০টি এবং ইবতেদায়ির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০টি বই ছাপা হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ছাপা হবে প্রায় ১৮ কোটি বই, যার মধ্যে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫টি। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪টি ব্রেইল বই ছাপা হবে। এনসিটিবির হিসাবে এসব বই ছাপাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মূল বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মুদ্রণ কাজ সঠিক গতিতে চলছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদ ফখরুল মাওলা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রামাণ্য সূত্রের ভিত্তিতে নির্ভুল তথ্য, ঐতিহাসিক সঠিকতা এবং মানসম্পন্ন ছাপা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ২০১২ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বইগুলো সংস্কার করা হচ্ছে এবং ২০২৮ সালে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে।