দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের অধীনে গ্রাহকপর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের স্বস্তি দিতে প্রথম ছয় মাসের জন্য একটি গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ঋণ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহককে কোনো সুদ পরিশোধ করতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় তদারকি জোরদার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বন্ধ খাতগুলোতে অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা দেবে। ব্যাংকগুলোর জন্য প্রথম ছয় মাস কোনো সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না, তবে গ্রেস পিরিয়ড শেষে বকেয়া সমন্বয়সহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সুদ পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে গ্রাহকপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। গ্রাহকের ক্ষেত্রেও একই রকম ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য হবে, যার মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী ত্রৈমাসিক কিস্তি থেকে আগের বকেয়াসহ সুদ আদায় শুরু হবে। তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে আগামী তিন বছর মেয়াদের মধ্যে ব্যাংকগুলো সুবিধা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবে।
নতুন জারি করা নির্দেশনায় প্রাক-অর্থায়নের অর্থ প্রকৃত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং ঋণের ব্যবহার ও আদায় পরিস্থিতি সঠিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবহেলা কিংবা তহবিল অপব্যবহার রোধে এই তদারকি নিশ্চিত করে অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।






















