উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উপজেলা পর্যায়ে গড়ে ওঠা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা কিছু ওষুধ পেলেও সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ রোগীদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার খন্দকপাড়া গ্রামের উচ্চ রক্তচাপে ভোগা এক রোগী নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারে ফলোআপে আসেন। তিনি জানান, আগে নির্দিষ্ট সেবা না থাকলেও এখন নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ সবসময় একরকম থাকে না, যা চিকিৎসায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের দীর্ঘ সময় বা অনেক ক্ষেত্রে সারা জীবন নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়। ফলে ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে, যার মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু হয়ে থাকে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত জটিলতায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভের আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে কাঠামোবদ্ধ সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এনসিডি কর্নারে নিয়মিত পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























