ডিজিটাল লেনদেনকে আরও গতিশীল, সাশ্রয়ী ও ব্যবসাবান্ধব করতে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে করা যেকোনো কেনাকাটার অর্থ সরাসরি এবং তাৎক্ষণিকভাবে (ইনস্ট্যান্টলি) সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা জারি করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনকে সর্বস্তরে জনপ্রিয় করা, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ছোট-বড় মার্চেন্টদের কিউআর পেমেন্ট গ্রহণে আগ্রহী করে তুলতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের ফলে গ্রাহক কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ বিক্রেতার ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে, যার জন্য মার্চেন্টকে আর আগের মতো অপেক্ষা করতে হবে না।
এর পাশাপাশি গ্রাহকপর্যায়ে প্রযুক্তিটির ব্যবহার সহজতর করতে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মোবাইল অ্যাপের ইন্টারফেসেও পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবরের মধ্যেই অ্যাপের হোম পেজের এমন একটি দৃশ্যমান স্থানে কিউআর আইকন বসাতে হবে যেন ব্যবহারকারী সহজেই তা ব্যবহার করতে পারেন। সার্কুলারে অ্যাপ স্ক্রিনের নিচের অংশের মাঝখান অর্থাৎ ‘থাম্ব জোন’কে (Thumb Zone) এর জন্য নির্ধারিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি স্ক্যান নয়, গ্যালারি থেকে বাংলা কিউআরের ছবি বা ইমেজ আপলোড করেও যেন মূল্য পরিশোধ করা যায়—আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা চালু করতে বলা হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে কার্ড হিসাবধারীসহ সব সঞ্চয়ী ও চলতি ব্যাংক হিসাবধারীদের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি বাংলা কিউআরের মাধ্যমে কেনাকাটার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সার্বিকভাবে, তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর এবং অ্যাপের সহজ ব্যবহারের এই যুগপৎ পরিবর্তন দেশের ক্যাশলেস অর্থনৈতিক যাত্রা আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























