মাত্র ৫০০ শয্যার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৩০০ থেকে ১৫০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। অতিরিক্ত রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, স্থান ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বারান্দা, লিফটের সম্মুখভাগ এবং করিডরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে মেডিসিন, শিশু ও সার্জারি বিভাগে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় মেঝেতেই চলছে তাদের চিকিৎসা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। শিশু বিভাগে জ্বর, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ভর্তি না করার চেষ্টা করা হলেও রোগীর অব্যাহত চাপের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বারান্দায় ও মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। দ্রুত এই হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


























