দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ৫ জন মারা গেছেন এবং একই সময়ে সারাদেশে আরও ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরজুড়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসে; চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই সর্বোচ্চ ৭৯ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে আগস্ট মাসে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টার সমন্বিত তথ্যে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৬২৪ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, বরিশালে ২২১ জন, চট্টগ্রামে ১৯২ জন, রাজশাহীতে ১০২ জন, ময়মনসিংহে ৬৪ জন, রংপুরে ৩৫ জন এবং সিলেটে ৪ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে চলতি বছর সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৪০০ জনে।
তবে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধির মাঝেই আশার কথা হলো, আক্রান্তদের সুস্থতার হারও আশাব্যঞ্জক। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ৫১৩ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৯২ জন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে মশক নিধন জোরদার এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন।


























