রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন ও মনগড়া প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন রাকসুর জিএস এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ সালাহউদ্দিন আম্মার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নৈতিক পদস্খলন ও নানা অভিযোগের জেরে তাঁকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে গুঞ্জন থাকলেও আম্মার তাঁর পোস্টে বিষয়গুলো কঠোর ভাষায় খণ্ডন করেছেন।
পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের একটি ভয়াবহ গুণ হলো তারা নিখুঁতভাবে মিথ্যাকে সত্য এবং সত্যকে মিথ্যা বানাতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিহিত করে তিনি বলেন, সংগঠনটি ভিত্তিহীন অভিযোগ ছুড়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বরং অভিযুক্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রমাণ করতে বলে যে সে অপরাধী নয়—যা মোটেও কাম্য নয়। ব্যক্তিগত চরিত্র ও নারী প্রীতি সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস জীবনে তিনি কোনো বোনের সঙ্গে অসম্মানজনক বা অনুচিত আচরণ করেননি, বরং তাঁর চরিত্র নিয়ে কথা বলার আগে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের ভেতরের চিত্র দেখা উচিত।
অতীতে তাঁকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত ৭৬ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিডিয়া ট্রায়ালের বিষয়ে আম্মার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য তৎকালীন উপাচার্যের অনুমতি ও পরামর্শক্রমেই বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে স্পন্সরশিপের জন্য একটি প্রপোজাল বা প্রস্তাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সেই প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্রটিকে বিকৃত করে ‘চাঁদা চাওয়ার চিঠি’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর নামের সঙ্গে অনৈতিকভাবে চাঁদাবাজ তকমা জুড়ে দিয়েছে। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে কমিটি আনলেও তাঁর ভালো পরিচয়ের সুবাদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এর সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের অতীত সম্পৃক্ততা ও বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে আম্মার বলেন, তাঁর ডানপন্থী সাংস্কৃতিক চর্চার কারণে অনেকে তাঁকে শিবির বলে আখ্যায়িত করতে পারে এবং অতীতে তিনি শিবিরের অফিসিয়াল গানেও অভিনয় করেছেন। তবে বর্তমান শিবিরের নীতি, নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেদিন শিবির কোথায় কোন নোংরা ও ধুরন্দর ব্যক্তিকে মেইন দায়িত্বে যেতে দেখেছে, তখন থেকেই তাদের পলিসি পরিষ্কার হয়ে গেছে। শতভাগ সত্য হলো, শিবির যেখানে সুযোগ পায় সেখানে অন্য কাউকে না হলেও সালাহউদ্দিন আম্মারকে সবচেয়ে বেশি মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। পরিশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগেরও কোনো প্রমাণ বা ভিত্তি নেই এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


























