সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে আকস্মিক বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত ও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি রাজকীয় যুদ্ধবিমানগুলো ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে, আর এর প্রত্যক্ষ জবাবে সৌদি আরবের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি যোদ্ধারা। বুধবার হুতি বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ইয়েমেনে হুতিদের সাম্প্রতিক দ্রুত সামরিক অগ্রগতি এবং রণক্ষেত্রে তাদের শক্ত অবস্থানের কারণে ওই অঞ্চলজুড়ে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই রণক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় মার্কিন প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে সৌদি আরবে কর্মরত নিজেদের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ইয়েমেন সীমান্ত থেকে অন্তত ২০ মাইলের মধ্যে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত জোট বাহিনীর কাছ থেকে লড়াইয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হুতিরা। হুতিদের প্রকাশিত সেই ভিডিওতে মরুভূমির বালিয়াড়িতে বিকট বিস্ফোরণে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি আকাশে উঠে যেতে এবং মাথার ওপর যুদ্ধবিমানের টহল দিতে দেখা যায়।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তারা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রসংলগ্ন সৌদি তেল বন্দর ‘ইয়ানবু’তে নতুন করে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছেন। এর পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশায়িতের বিমান ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে তাদের ড্রোন। তবে ঠিক কোন সময়ে এসব হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি এই সামরিক মুখপাত্র।























