পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জট, পদায়নে অনিশ্চয়তা, জনবল সংকট এবং পেশাগত হতাশা দূর করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চাকরির নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হওয়ার পর পদ শূন্য না থাকার কারণে পদোন্নতি আটকে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির নতুন কাঠামো চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা বাছাইয়ের জন্য ‘ফিট লিস্ট’ প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট নিরসনে ১৮ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুলিশের ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ দমনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এই উদ্যোগগুলোর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর।
এর আগে পুলিশ বাহিনীতে হতাশা ও পদোন্নতি জট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রশাসনের নজরে আসার পর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা, পুলিশ সদর দপ্তরের ধারাবাহিক বৈঠক এবং সরকারের পক্ষ থেকে কাঠামোগত সংস্কারের ঘোষণা আসে। এর ফলে বাহিনীর ভেতরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা কেটে নতুন কর্মস্পৃহা ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কেবল সাময়িক পদোন্নতির মাধ্যমে এই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনায় একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে পুলিশের পেশাগত সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ ছিল। প্রশাসন ক্যাডারে নির্দিষ্ট মেয়াদ ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে শূন্যপদ না থাকলেও পদোন্নতির বিধান থাকলেও পুলিশে এতদিন তা ছিল না। এই বৈষম্য দূর করতে প্রশাসন ক্যাডারের আদলে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি চালur নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।






















