সকালের নাশতা শুধু শরীরে শক্তি জোগায় না, বরং দিনের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার রক্তে শর্করার মাত্রার ওপরও এর বিশেষ প্রভাব পড়ে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে সকালের নাশতায় কী খাচ্ছেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ডায়াবেটিসে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া, এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং খাবারের তালিকায় প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের পরিমাণ ও কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণে প্লেট পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে একটি ৯ ইঞ্চি প্লেটকে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়। প্লেটের অর্ধেক থাকবে কম-স্টার্চযুক্ত সবজি যেমন শসা, টমেটো, লাউ, পালংশাক, ফুলকপি বা বাঁধাকপি। এক-চতুর্থাংশ জুড়ে থাকবে প্রোটিন যেমন ডিম, মাছ, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, ডাল বা টফু। আর বাকি এক-চতুর্থাংশ অংশে থাকবে কার্বোহাইড্রেটজাত খাবার যেমন লাল চালের ভাত, পূর্ণ শস্যের রুটি বা ওটস।
আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমায়। নাশতায় একটি সেদ্ধ ডিমের সঙ্গে এক টুকরো আটার রুটি ও শাকসবজি, চিনি ছাড়া ওটসের সঙ্গে টক দই ও বাদাম কিংবা ডাল ও সবজি দিয়ে তৈরি হালকা খাবার রাখা যেতে পারে। তবে কার কতটুকু খাবার প্রয়োজন, তা মূলত বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর নির্ভর করে। ফলের রসের বদলে সবসময় গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।


























