বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চীনের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বেইজিংয়ের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, চীনের এই উদ্যোগ সংকট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রপতি তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরশক্তি খাতে চীনা বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেন।
আঞ্চলিক যোগাযোগের বিভিন্ন করিডর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও বেগবান হবে। এছাড়া তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার প্রশংসা করে চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার সফর এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা স্মরণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুসংহত হবে।
এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্য জটিল রক্তের ক্যানসার চিকিৎসায় চীনা প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় বিদায়ী রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।






















