ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক ক্যারিয়ারে কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত এই কর্মকর্তা ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ বা এসআইআর নামক ভোটার তালিকা সংশোধনের এক ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে পড়েছেন। গত বছর বিহার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে এবং খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি বা মোট ভোটারের ১৩ শতাংশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, নকল ও অযোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও অধিকার কর্মীরা এর ফলে বৈধ ভোটাররা ভোটাধিকার হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দুই সহকর্মী কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে অন্তত চৌদ্দবার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা যোগ করার পদ্ধতি এবং তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের এই মতবিরোধ দেখা দেয়। তিন সদস্যের এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন।























