দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ, ভেজালমুক্ত ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, একজন নাগরিক যেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থে ভেজাল, নিম্নমানের কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য কিনতে বাধ্য না হন—তা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক অবয়ব বা পরিচয়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনে তার কাজের ইতিবাচক প্রভাব কতটা পড়ছে—সেটাই মুখ্য বিষয়। সেদিক বিবেচনা করলে নাগরিকদের নিত্যদিনের সুরক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধিদপ্তরটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে কর্মচারীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান সেবাগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যেন সাধারণ ভোক্তারা দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের অধিকার রক্ষা ও অভিযোগের প্রতিকার পেতে পারেন।
ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সফল মডেল কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে একটি নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এই গবেষণার সুপারিশের আলোকে অধিদপ্তরের সেবাকে আরও জনবান্ধব ও বিস্তৃত করা হবে এবং শিগগিরই কিছু নতুন দৃশ্যমান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। সভায় সংস্থাটির চলমান মনিটরিং কার্যক্রম, প্রযুক্তির প্রযোগ, জনবল কাঠামো এবং ভোক্তাসেবা আরও সহজ ও সুসংহত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।






















