মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহককে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকার অবাস্তব বিদ্যুৎ বিল প্রদানের ঘটনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনায় ‘দায়িত্বে চরম ও অমার্জনীয় গাফিলতির’ অভিযোগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি মুঠোফোনে কথা বলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় সৃষ্ট মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য মন্ত্রী গ্রাহকের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়েছিল। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
ঘটনা জানার পর মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক বা টাইপিং অসাবধানতাবশত সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ার কারণে এই অবিশ্বাস্য বিল তৈরি হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।






















