আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ সদর দফতর থেকে শুরু করে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার একটি নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে।
এছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর উদ্দেশ্যে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে জেনারেটর কিংবা চার্জার লাইটের মতো বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই উৎসবের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ অনুদানের পরিমাণ বিগত বছরের চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার পাঁচ কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন।
পূজার ছুটির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ৩ দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবার যুক্ত হয়ে মোট টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশের ছুটি যুক্ত হবে এবং পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সব সরকারি অফিস ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সনাতন নেতারা এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো পূজামণ্ডপ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি, তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ দমন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী reiterate করেন যে, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না এবং অপরাধীকে শুধুই অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কিছুটা ঘাটতি ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।






















