বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দেওয়ার জন্য চীন ও পাকিস্তান তাদের দেশের দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
চীন সরকারের সহায়তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া চীনা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকদের চীনে নিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে ক্যানসার রোগী নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভির মতো রোগগুলো প্রতিরোধে চিকিৎসকদের কেবল চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামেগঞ্জে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি এড়াতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, হবু বর-কনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া সন্তান ও পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হাত ধোয়া এবং পরিচ্ছন্নতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে জনসচেতনতা তৈরির ওপরও তিনি জোর দেন।
জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ।






















