ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন গ্রাহকের জন্য জারি করা ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি। এর ফলে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বা এলএনজি চালান সরবরাহ করতে পারবে না প্রতিষ্ঠানটি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইউরোপের অন্যতম বড় গ্রাহক এডিসন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তারা কাতার থেকে কোনো চালান পাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ধাক্কা খাওয়া দেশগুলোর মধ্যে কাতার অন্যতম। বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র ও বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ গোপনে তেল রপ্তানি করতে পারলেও আগস্টের শেষ পর্যন্ত কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি চালান পাঠাতে পেরেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫০৯টি। কাতারএনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এডিসন ইতোমধ্যে কাতার থেকে না পাওয়া ৩৫টি চালানের ঘাটতি পূরণে মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিছুদিন পরেই শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় ঠান্ডা মাসগুলোর আগে গ্যাসের মজুত পূরণের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রচেষ্টা তীব্র হবে। এর ফলে সীমিত বৈশ্বিক সরবরাহের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে ইউরোপের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম চড়া থাকার আশঙ্কা রয়েছে।


























