জুলাই বিপ্লবে কারফিউ জারি করে ছাত্রজনতার ওপর চালানো গণহত্যার ঘটনায় পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ তিনজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া। এই তিনজনের মধ্যে আরও রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি শেষে গণমাধ্যমের কাছে এই দাবি জানান তিনি। জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুলাইযোদ্ধা মো. আব্দুল হান্নান।
নিজের জবানবন্দিতে মো. আব্দুল হান্নান বলেন, তার বর্তমান বয়স ৪০ বছর। তিনি ঘোষিত গেজেটে খ শ্রেণির জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ধানমন্ডি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে বাড্ডায় ফেরার পথে তিনি রাজু ভাস্কর্যের সামনে অসংখ্য ছাত্রজনতাকে কোটা ও বৈষম্য নিয়ে স্লোগান দিতে দেখেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তার মন খারাপ হয়ে যায় এবং তিনি ছাত্রজনতার এই যৌক্তিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জবানবন্দিতে হান্নান মিয়া আরও বলেন, ১৮ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পাশে দুই থেকে তিন হাজার ছাত্রজনতা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল। তিনি সেই আন্দোলনে অংশ নেন। কিছুক্ষণ পর বাড্ডা থানার ভেতর থেকে ৬০-৬৫ জনের একটি পুলিশের দল এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ ছাত্রজনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে। আন্দোলনকারীরা তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়েন। পরে তিনি ৫-৬ জন আন্দোলনকারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এই জুলাইযোদ্ধা তার জবানবন্দিতে আরও জানান, ১৯ জুলাই একই জায়গায় আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী নির্বিচারে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালায়। ওই দিন ১০-১২ জন ছাত্রজনতাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সেদিন মোবাইল ফোনে অনলাইনে তিনি দেখতে পান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৪ দলের বিভিন্ন নেতারা গণভবনে মিটিং করছেন। তাদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মিটিং শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমের সামনে কারফিউয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, ছাত্ররা মাঠে নামলেই তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে। ওবায়দুল কাদেরের পাশে তখন মেনন, কামরুল ও আমির হোসেন আমুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






















