বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে জীবনরক্ষাকারী টিকা এবং ক্যানসারের ওষুধ রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌথ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যখাতে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্তকরণের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান যে, পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ‘পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ এবং ‘গামবাট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (জিআইএমএস)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের পারস্পরিক সংযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা স্থাপন করা সম্ভব।
বিশেষ করে, গামবাট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জিআইএমএস) বাংলাদেশের চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপন (লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান, জটিল অস্ত্রোপচারে প্রত্যক্ষ সহায়তা এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জরুরি সেবাদানে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে হাইকমিশনার মন্ত্রীকে অবহিত করেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী আদান-প্রদান নিয়েও উভয়পক্ষ আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান যে, বাংলাদেশ বিশ্বমানের টিকা এবং ক্যানসারের ওষুধ পাকিস্তানে রপ্তানির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় স্বাস্থ্যখাতে পুঁজি বিনিয়োগ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানান।






















