Dhaka ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আসন্ন আগামী পহেলা অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সফল করে তুলতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। সফরের মূল সভাস্থলগুলোকে মূলত ‘রেড’, ‘ইয়েলো’ এবং ‘হোয়াইট’—এই তিনটি সুনির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে পুরো নিরাপত্তার ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের দুই হাজারের অধিক সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ফেনীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই সমন্বয় সভায় অংশ নেন। প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালীন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার প্রতিটি সভাস্থল ও যাতায়াতের রুট নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনতে এসএসএফ ও পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করবেন।

আগামী ১ অক্টোবর সকালে সড়কপথে ফেনীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনি একনেকে অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এরপর ফুলগাজী উপজেলায় পৌঁছে তিনি পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কর্মসূচির শুরুতে তিনি ঐতিহাসিক খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ এবং পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্থাপিত প্রায় ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করবেন। এরপর ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় তার সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম ও নামাজ আদায়ের কর্মসূচি রয়েছে।

নিরাপত্তার বিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাকে তিনটি আলাদা জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘রেড জোন’-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কেবল নির্দিষ্ট অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই পাবেন। একইভাবে ‘ইয়েলো জোন’-এর জন্যও আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে অবস্থিত বাকি বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘হোয়াইট জোন’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুত করার পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জনসভায় আগত সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ বাথরুম বা পোর্টেবল টয়লেট এবং স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মাঠে কাজ করছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়ক এবং ফুলগাজী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খানাখন্দ মেরামতের মাধ্যমে যাতায়াত মসৃণ করার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের পূর্বনির্ধারিত তারিখ থাকলেও তা স্থগিত করে নতুন করে পহেলা অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন আগামী পহেলা অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সফল করে তুলতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। সফরের মূল সভাস্থলগুলোকে মূলত ‘রেড’, ‘ইয়েলো’ এবং ‘হোয়াইট’—এই তিনটি সুনির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে পুরো নিরাপত্তার ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের দুই হাজারের অধিক সদস্য মাঠে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত ফেনীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই সমন্বয় সভায় অংশ নেন। প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালীন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার প্রতিটি সভাস্থল ও যাতায়াতের রুট নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আওতায় আনতে এসএসএফ ও পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করবেন।

আগামী ১ অক্টোবর সকালে সড়কপথে ফেনীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনি একনেকে অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এরপর ফুলগাজী উপজেলায় পৌঁছে তিনি পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কর্মসূচির শুরুতে তিনি ঐতিহাসিক খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ এবং পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্থাপিত প্রায় ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল নেটওয়ার্কের উদ্বোধন করবেন। এরপর ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় তার সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম ও নামাজ আদায়ের কর্মসূচি রয়েছে।

নিরাপত্তার বিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, সভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাকে তিনটি আলাদা জোনে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘রেড জোন’-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কেবল নির্দিষ্ট অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই পাবেন। একইভাবে ‘ইয়েলো জোন’-এর জন্যও আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে অবস্থিত বাকি বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘হোয়াইট জোন’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি ও সাজসজ্জার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুত করার পাশাপাশি পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জনসভায় আগত সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ বাথরুম বা পোর্টেবল টয়লেট এবং স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মাঠে কাজ করছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়ক এবং ফুলগাজী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খানাখন্দ মেরামতের মাধ্যমে যাতায়াত মসৃণ করার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের পূর্বনির্ধারিত তারিখ থাকলেও তা স্থগিত করে নতুন করে পহেলা অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল।